রাসায়নিক বিক্রিয়া সমতাকরণের ট্রিক
ট্রিক-১: M-N-H-O রুল (মেটাল-ননমেটাল-হাইড্রোজেন-অক্সিজেন Golden Rule)
সমতা করার সময় এই অর্ডারে মেলানোর চেষ্টা করো, দেখবে কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেছে।
১. প্রথমে ধাতু (Metal) মেলাও (যেমন:
২. তারপর অধাতু (Non-metal) মেলাও (যেমন:
৩. এরপর হাইড্রোজেন (
৪. সবশেষে অক্সিজেন (
ট্রিক-২: গ্যাং রুল (যৌগমূলককে একসাথে রাখা)
যদি দেখো কোনো যৌগমূলক (যেমন:
উদাহরণ:
- এখানে
বামেও আছে, ডানেও আছে। একে ভাঙবে না। - ডান দিকে
আছে ৩টা, বামে আছে ১টা। তাই বামে এর আগে একটা ৩ বসিয়ে দাও। - এবার বাকিগুলো মেলানো একদম সহজ হয়ে যাবে!
ট্রিক-৩: জোড়-বিজোড় সমস্যা সমাধানের ট্রিক
অনেক সময় দেখবে, কোনো মৌল একপাশে জোড় সংখ্যায় (যেমন:
সমাধান: যে যৌগে বিজোড় সংখ্যায় আছে, তার সামনে একটা ২ বসিয়ে দাও। এতে বিজোড়টা জোড় হয়ে যাবে, আর বাকিগুলো মেলানো সহজ হবে।
উদাহরণ:
- এখানে ডানে অক্সিজেন (
) আছে ৩টা (বিজোড়)। তাই এর আগে একটা ২ বসিয়ে দাও।
- এখন ডানে
হলো ৪টা, আর হলো ৬টা। - এবার বামে
এর আগে ৪ আর এর আগে ৩ বসালেই বিক্রিয়া সমতাকৃত!
ট্রিক-৪: দহন বিক্রিয়ার জন্য C-H-O ট্রিক
যেকোনো হাইড্রোকার্বন (কার্বন ও হাইড্রোজেনের যৌগ) পোড়ানোর বিক্রিয়া সমতা করার জন্য এই অর্ডারটা ফলো করো:
১. প্রথমে কার্বন C মেলাও।
২. তারপর হাইড্রোজেন H মেলাও।
৩. সবশেষে অক্সিজেন O মেলাও।
উদাহরণ:
- কার্বন: বামে ১টা, ডানে ১টা। মিলে আছে।
- হাইড্রোজেন: বামে ৪টা, ডানে ২টা। তাই
এর আগে একটা ২ বসাও। - অক্সিজেন: এখন ডানে মোট অক্সিজেন হলো
থেকে ২টা আর থেকে ২টা = মোট ৪টা। তাই বামে এর আগে একটা ২ বসাও। হয়ে গেল!
ট্রিক-৫: বনাম এর ভাঙা-গড়ার খেলা
খেয়াল করলে দেখবে যেখানেই কার্বোনেট যৌগ আছে সেটা ভাঙলেই কার্বন-ডাই অক্সাইড তৈরী হয়। আবার যেখানে কার্বনডাই অক্সাইড কারও সাথে যুক্ত হয় সেখানে কার্বনেট যৌগ তৈরী করে।
এটা একটা প্যাটার্ন, যা মনে রাখলে বিক্রিয়া বোঝা এবং লেখা দুটোই খুব সহজ হয়ে যায়।
মূল কথা:
- ভাঙার খেলা: যখনই কোনো ধাতব কার্বনেটকে (
) তাপ দেওয়া হয় বা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করানো হয়, তখন সেখান থেকে প্রায় নিশ্চিতভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড ( ) গ্যাস বের হয়ে যায়। - গড়ার খেলা: আবার, যখন কোনো ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইডের (ক্ষারক) মধ্য দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড (
) গ্যাস চালনা করা হয়, তখন প্রায়ই তারা মিলেমিশে কার্বনেট ( ) যৌগ তৈরি করে।
উদাহরণ (ভাঙার খেলা)
১. তাপ দিয়ে ভাঙা (বিয়োজন বিক্রিয়া):
চুনাপাথরকে (ক্যালসিয়াম কার্বনেট) তাপ দিলে চুন (ক্যালসিয়াম অক্সাইড) আর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়।
- দেখো,
ভেঙে আর হয়ে গেল!
২. এসিড দিয়ে ভাঙা (প্রশমন বিক্রিয়া):
মার্বেল পাথরের (ক্যালসিয়াম কার্বনেট) উপর হাইড্রোক্লোরিক এসিড ফেললে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, পানি আর বুদবুদ আকারে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস বের হয়।
- এখানেও
ভেঙে হয়ে বেরিয়ে গেল!
উদাহরণ (গড়ার খেলা)
১. চুনের পানি ঘোলা হওয়া:
চুনের পানির (ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড) ভেতর ফুঁ দিলে (নিঃশ্বাসের
- এখানে
যুক্ত হয়ে তৈরি করল!
২. ধাতব অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া:
সোডিয়াম অক্সাইডের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়ায় সোডিয়াম কার্বনেট তৈরি হয়।
- এখানেও দেখো,
এসে কার্বনেট যৌগ বানিয়ে ফেলল!
সবচেয়ে বড় ট্রিক হলো ধৈর্য ধরে প্র্যাকটিস করা। যত বেশি প্র্যাকটিস করবে, তত দ্রুত দেখেই বুঝতে পারবে কোথায় কোন সংখ্যা বসাতে হবে।